শাহাদত হোসেনঃ
বাংলাদেশে দুর্নীতি, ঘুষ ও চাকরি বাণিজ্যের মতো সামাজিক ব্যাধি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি থেকে বেসরকারি—সব খাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক বেতনভিত্তিক প্রথা এবং নগদ বেতন প্রদানের পুরনো ব্যবস্থা এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
এই প্রেক্ষাপটে চাকরিজীবী সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে—
১) মাসিক বেতনের পরিবর্তে সাপ্তাহিক বেতন প্রদান করা।২) প্রত্যেক চাকরিজীবীর জন্য ব্যাংক একাউন্ট বাধ্যতামূলক করা এবং সেই একাউন্টে সরাসরি বেতন জমা দেওয়া।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি?
মাসিক বেতন হাতে পাওয়ার পর মাসের মাঝামাঝি থেকেই বেশিরভাগ কর্মচারী অর্থসংকটে পড়েন। সংসার চালাতে গিয়ে তারা ঘুষ, দুর্নীতি বা অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে, নগদ বেতন প্রদানের ফলে প্রাপ্য বেতন থেকে অনেক সময় কাটছাঁট হয়, আবার এর কোন প্রমাণও থাকে না।
সাপ্তাহিক বেতনের সুফল
কর্মচারীদের হাতে নিয়মিত অর্থ থাকবে, সংসার নির্বিঘ্নে চলবে।
আর্থিক চাপ কমে কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
দুর্নীতি ও ঘুষের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে স্থিতিশীলতা আসবে।
ব্যাংক একাউন্টে বেতন প্রদানের সুফল। বেতন প্রদানের পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। কর্মচারীর অধিকার রক্ষা পাবে।সরকারের পক্ষে বেতন লেনদেন পর্যবেক্ষণ সহজ হবে।নগদ অর্থের অনিয়ম বন্ধ হবে।রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।
সবার জন্য অভিন্ন মঙ্গল
চাকরিজীবী সমাজ মনে করে “সাপ্তাহিক বেতন প্রদানের ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলক ব্যাংক একাউন্ট চালু হলে কর্মচারীরা যেমন আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা পাবেন, তেমনি দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে সরকার ও জনগণও উপকৃত হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই সরকারের উচিত এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা। যদি সাপ্তাহিক বেতন ও ব্যাংক একাউন্টে বেতন প্রদানের এই যুগোপযোগী প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে দেশের অর্থনীতি স্বচ্ছ হবে, দুর্নীতি কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।